যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে ব্যবসা সম্প্রসারণে জোর দিয়েছে সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান ভ্যানগার্ড। এর নগদ ফলও পেয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। বিশ্বের শীর্ষ অর্থনীতির বাইরে প্রথমবারের মতো তাদের ব্যবস্থাপনাধীন সম্পদ ১ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। একই সঙ্গে বড় ধরনের আন্তর্জাতিক সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করছে ভ্যানগার্ড এবং আগামী পাঁচ বছরে গ্রাহক সংখ্যা ও সম্পদের পরিমাণ দ্বিগুণ করার লক্ষ্য নিয়েছে। খবর এফটি।
বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানটির সিইও সালিম রামজি বলেন, ‘বিশ্বজুড়ে নাগরিকদের অতিরিক্ত নগদ অর্থ বিনিয়োগে উৎসাহিত করার চেষ্টা করছে সরকারগুলো। এতে আমাদের সামনে অবিশ্বাস্য সুযোগ তৈরি হচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘মার্কিন ও ইউরোপীয়দের সঞ্চয়ের বড় অংশ এখনো নগদ অর্থ ও ব্যাংক জমা অবস্থায় রয়েছে। কারণ বিনিয়োগকে মানুষ খুব ব্যয়বহুল ও খুব জটিল মনে করে এবং দীর্ঘমেয়াদি ভালো বিনিয়োগে প্রবেশের পথে বিভিন্ন ধরনের বাধা রয়েছে।’
ভ্যানগার্ড বিশ্বজুড়ে ১২ ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি সম্পদ ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত। প্রতিষ্ঠানটি মূলত কম খরচের বিনিয়োগ পণ্য নির্বাচন ও স্বতন্ত্র বিনিয়োগকারীদের প্যাকেজভিত্তিক ফান্ড প্রস্তাব করে। যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে ভ্যানগার্ডের বর্তমানে ১ কোটি ৭০ লাখ গ্রাহক রয়েছে। আগামী পাঁচ বছরে তা চার কোটিতে উন্নীত করতে চায় সংস্থাটি।
এমন একসময় ভ্যানগার্ডের পরিকল্পনা সামনে এল, যখন যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশের সরকার অবসরকালীন আয় ও স্থানীয় অর্থনীতিতে অর্থ প্রবাহ বৃদ্ধির লক্ষ্যে নতুন বিনিয়োগ নীতিমালা প্রণয়ন করছে। ভ্যানগার্ড সেই ১৯টি প্রতিষ্ঠানের অন্যতম, যারা ব্রিটিশ সরকারের একটি উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত।
১৯৭৫ সালে ভ্যানগার্ড প্রতিষ্ঠা করেন জ্যাক বোগল। খুচরা বিনিয়োগকারীদের জন্য কম খরচে ইনডেক্স-ট্র্যাকিং ফান্ড প্রস্তাবের জন্য বিশেষভাবে পরিচিত। পাশাপাশি শেয়ার বাছাইভিত্তিক ফান্ডও রয়েছে ভ্যানগার্ডের পরিষেবায়।
সাম্প্রতিক বছরে ইনডেক্স ফান্ড ও এক্সচেঞ্জ-ট্রেডেড ফান্ডের (ইটিএফ) জনপ্রিয়তা দ্রুত বাড়ছে। এতে ব্যাপকভাবে লাভবান হচ্ছে ভ্যানগার্ড ও ব্ল্যাকরকের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো। দুই প্রতিষ্ঠানের পরিচালনাধীন সম্পদের পরিমাণও বিপুলভাবে বেড়েছে।
ভ্যানগার্ডের আন্তর্জাতিক ব্যবসা বিভাগের প্রধান ক্রিস ম্যাকআইজ্যাক বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে আমাদের সম্পদ ব্যবস্থাপনা ব্যবসা গত তিন বছরে দ্বিগুণ হয়েছে। এ গতিতে এগোলো পরবর্তী ১ ট্রিলিয়ন ডলার যোগ করতে আরো পাঁচ বছর লাগবে।’
এর সঙ্গে তিনি যোগ করেন, ‘আমরা আন্তর্জাতিক বাজারগুলোয় অসাধারণ সুযোগ দেখছি। মানুষ এখন পুঁজিবাজারে কম বিনিয়োগ করছে। আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের পোর্টফোলিওতে ইনডেক্স ফান্ড ও ইটিএফ এখনো কম।’
ভ্যানগর্ডের সিইও সালিম রামজি বলেন, ‘বাজারের শক্তিই মানুষকে বিনিয়োগের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। কারণ গ্রাহক টানতে সম্পদ ব্যবস্থাপক প্রতিষ্ঠানগুলো পরস্পরের সঙ্গে খরচ কমানোর প্রতিযোগিতায় নেমেছে।’